খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে। শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা করতে চায় সরকার

বাংলাদেশকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় আস্থা ও নিশ্চয়তা দেবে।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে।

‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইউনিভার্সাল কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কৃষি ও পানি নিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্প এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তার মতে, এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে রয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য কমানো, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে গুরুত্ব

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুদৃঢ় করার কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন জরুরি।

এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারে।

তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে শতাধিক দেশের অংশগ্রহণ

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।

সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারস্পেস, বাণিজ্য ও সংযোগ, জলবায়ু ও মানব

 তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম 

প্রেমের টানে ঠাকুরগাঁওয়ে চীনা যুবক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রেমের টানে ঠাকুরগাঁওয়ে চীনা যুবক

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। এরপর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে সুদূর চীন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এসেছেন এক যুবক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও চাঞ্চল্য।

চীনা ওই যুবকের নাম শিওং ঝেনতিং। তিনি চীনের শিনজিয়াংয়ের আলার শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার বীরগড় গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে নাসিমা আক্তার ঢাকার একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে চীনা যুবক শিওং ঝেনতিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সেই সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন শিওং ঝেনতিং। এরপর থেকে তিনি নাসিমার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

চীনা যুবকের বাংলাদেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তাকে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। তবে নাসিমা ও শিওং ঝেনতিংয়ের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী কিংবা স্থানীয়দের কথা বলতে দিচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা।

নাসিমার মা-বাবা বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করলে মেয়ে ও চীনা ছেলের সম্মান নষ্ট হতে পারে। তাই আমরা কাউকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছি না।’

পরিবারের এমন অবস্থানের কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা চীনা যুবক ও নাসিমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে হরিপুর থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক যোগফল. কম 

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ২২৮

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ২২৮

যোগফল প্রতিবেদক: 

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ২২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৮ জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও সাতজনের মরদেহ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন আগে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং একজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ২০ জন।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৩৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া শতাধিক মরদেহের একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ১০৫টি মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গণজানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন। এ ঘটনার ছবি ও তথ্যও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ

যোগফল প্রতিবেদক: 

মেনোপজের পর যেকোনো ধরনের রক্তপাতকে স্বাভাবিক হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি জরায়ুর ভেতরের আবরণে হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার জরায়ুর ভেতরের আবরণে শুরু হয়। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নারীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা গাইনোকলজিক্যাল ক্যানসারগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

গ্লোবোক্যান ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬২০ জন নতুন করে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে মারা গেছেন ১ লাখ ৬৮০ জন। সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার হিসাবে এটি ১৬তম অবস্থানে রয়েছে।

ভারতে ২০২৪ সালে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩০৮ জন এবং মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৬২ জন।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত। বিশেষ করে মেনোপজের পর যেকোনো ধরনের রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

মেনোপজের আগে অনিয়মিত বা স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাতও এ রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত যোনিপথের স্রাব, তলপেটে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেট ফাঁপা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

স্থূলতা, কখনো গর্ভধারণ না হওয়া, অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ হওয়া, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), শুধু ইস্ট্রোজেনযুক্ত হরমোন থেরাপি এবং ট্যামোক্সিফেন ব্যবহারের সঙ্গে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং কিছু ধরনের মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সঙ্গে তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

জেনেটিক কারণও রয়েছে

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ক্ষেত্রে বংশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লিঞ্চ সিনড্রোম থাকলে এ রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

লিঞ্চ সিনড্রোম ডিএনএ মেরামতের সঙ্গে জড়িত কিছু জিনের পরিবর্তনের কারণে হওয়া একটি বংশগত রোগ। এ সিনড্রোমে আক্রান্ত নারীদের জীবদ্দশায় এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

যেভাবে শনাক্ত করা হয়

অস্বাভাবিক রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে সাধারণত সেখান থেকেই রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সাধারণত ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু করা হয়। প্রয়োজন হলে এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে হিস্টেরোস্কপি বা ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটাজের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে।

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর টিউমারের গ্রেড, গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও মলিকিউলার ধরন নির্ধারণ করা হয়। টিউমার জরায়ুর দেয়ালে কতটা ছড়িয়েছে তা জানতে পেলভিক এমআরআই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।

চিকিৎসা কী

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের চিকিৎসা রোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যালোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় ও লিম্ফ নোড পরীক্ষা বা অপসারণ করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ের কম ঝুঁকির ক্যানসারে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই যথেষ্ট হতে পারে। তবে রোগের ঝুঁকি বা পর্যায় অনুযায়ী রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

তাই মেনোপজের পর রক্তপাত হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দ্রুত শনাক্তকরণ এ রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম